Ticker

6/recent/ticker-posts

খালি পেটে মধু খেলে কি হয় উপকারিতা ও গুণাগুণ


 

ধু শুধুমাত্র একটি উপকারী খাদ্য নয়, পন্য ও ঔষধ বটে। জন্মের পর বাচ্চাদেরকে নানা দাদীরা মুখে মধু দেয় নাই এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন পৃথিবীতে। প্রাচীনকাল থেকে মানুষ প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবে, মিষ্টি হিসেবে, এবং চিকিত্‍সার উপাদান হিসাবে মধুর ব্যবহার করে আসছে, হাজার হাজার বছর ধরে। আমাদের শরীরের সুস্থতায় মধুর উপকারিতা অতুলনীয়।


       মানব দেহ মধুর উপকারিতা


তারুণ্য বজায় রাখে -

তারুণ্য বজায় রাখতে মধুর ভূমিকা অপরিহার্য। মধুতে রয়েছে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের রং ফর্সা ও সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের ভাঁজ পড়া ও বয়সের ছাপ পড়া থেকে মধু রক্ষা করে। শরীরের সামগ্রিক শক্তি ও ত্বক সজীব রাখে।


দেহে শক্তি বাড়ায় -

মধুতে রযেছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি। প্রাকৃতিক চিনি আমাদের শরীরে শক্তি যোগায় এবং শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে থাকে এই মধু। যে সকল ভাই বোনেরা সারাক্ষন দূর্বলতায় ভোগেন। তারা প্রতিদিন সকালে নিয়মিত ১ চামুচ মধু খেয়ে নিন। এই ভাবে টানা এক মাস মধু খেলে আপনার শরীর চাঙ্গা হবে। তাই নিয়মিত মধু খাওয়ার অভ্যাস করুন।


হজম শক্তি বাড়ায় -

মধু যেমন খাইতে সুস্বাদু তেমনি না ধরনের উপকার করে। হজমের সমস্যা দূর করে। মধু পেটের অম্লভাব কমিয়ে হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। হজমের সমস্যা দূর করার জন্য মধুর গুরুত্ব অনেক। তাই প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক চামচ মধু খাওয়া অভ্যাস টি করুন।


ভুড়ি ও মেদ কমায় -

আপনার দিন দিন কি ভুড়ি বেড়েই চলেছে, ওজন বেড়ে গেছে। নিয়ম করে খাটি মধু খাওয়ার অভ্যাস করুন। দেখবেন অতি সহজে মেদ ও ভুড়ি কমে যাবে। প্রতিদিন নিয়মিত আপনি সকালে খালি পেটে হালকা গরম জলে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খান। তাহলে দেখবেন, আপনার ওজন আগের থেকে অনেকটায় কমে গেছে। তাছাড়াও এভাবে প্রতিদিন নিয়মিত মধু খেলে লিভার পরিষ্কার থাকে, শরীরের বিষাক্ত উপাদান গুলো বের করে দেয় এবং শরীরের মেদ গলে ভুড়ি কমিয়ে দেয়।


যৌন দুর্বলতা -

মধু সকল রোগের মৌহ ওষুধ। পুরুষদের মধ্যে যাদের যৌন দুর্বলতা রয়েছে তারা যদি নিয়মিত প্রতিদিন মধু ও ছোলা মিশিয়ে দুই থেকে তিন সাপ্তাহে খেতে পারেন। আপনার হারানো যৌবন আবার ফিরে পাবেন। প্রখ্যাত কিছু মধু বিজ্ঞানীদের মতে দৈনিক লিঙ্গে মধু মাখলে লিঙ্গ শক্ত ও মোটা হয় এবং সহবাসে দীর্ঘসময় পাওয়া যায়। নিয়মিত মধু সেবন করলে ধাতু দুর্বল (ধ্বজভঙ্গ) রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাই অবশ্যই নিয়মিত মধু খাওয়ার অভ্যাস কর।


রক্তশূন্যতায় মধু -

মধু আমাদের রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে থাকে, তাই এটি রক্তশূন্যতায় বেশ ফলদায়ক। কারণ, এতে রয়েছে অনেক বেশি পরিমাণে কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ।


সর্দিকাশি দূর -

 >>২ চা চামচ মধু ১ গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে সকালে ও সন্ধ্যায় খেলে সর্দিকাশি তারাতাড়ি দূর হবে।

>>হালকা গরম জলসহ মধু মিশিয়ে গড়গড়া করলে গায়কদের গলার স্বর যেমন বৃদ্ধি পায়। তেমনি অনেকের মতে, এটা টনিকের মতো কাজ করে।

>>১ চামুচ আদার রস এবং ১ চামুচ মধু একসঙ্গে মিশিয়ে সকালে ও সন্ধেবেলা খেলে সর্দি সেরে যায়।অবশ্যই খেয়ে দেখবেন অনেক উপকার পাবেন।


রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় -

শরীরে রোগ প্রতিরোধ  ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে পারে সেটা হচ্ছে মধু। কারণ মধুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে মিনারেল, ভিটামিন ও এনজাইম যা শরীরকে বিভিন্ন অসুখ বিসুখ থেকে রক্ষা করে। তাছাড়াও নিয়মিত সকালে ১ চামচ মধু খেলে ঠাণ্ডা, কফ, কাশি ঠান্ডা জনিত রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।


হার্ট অ্যাটাক -

মধুর সঙ্গে দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে রক্তনালীর সমস্যা দূর করে, এবং রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ ১০ ভাগ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। মধু ও দারচিনি যদি আমরা নিয়মিত খাই, তাহলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক কমে যাবে


কোষ্ঠকাঠিন্য -

মধুতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। এটি ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ১ চামুচ খাঁটি মধু ভোরবেলা পান করলে কোষ্ঠবদ্ধতা এবং অম্লত্ব দূর হয়। অবশ্যই আমরা নিয়মিত মধু খাওয়ার অভ্যাস কর।


পুষ্টিগুণে ভরপুর মধু


মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। ফুলের পরাগের মধুতে থাকে–

২৫ থেকে ৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ,

৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ ফ্রুক্টোজ,

০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ

এবং ৫-১২ শতাংশ মন্টোজ থাকে


>>১০০ গ্রাম মধুতে থাকে ২৮৮ ক্যালরি

২২ শতাংশ অ্যামাইনো এসিড

২৮ শতাংশ খনিজ লবণ

১১ ভাগ এনকাইম


তে চর্বি ও প্রোটিন নেই। মধুর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৫, বি৬, আয়োডিন, জিংক ও কপার সহ অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান। যা আমাদের শুধুমাত্র দেহের বাহ্যিক দিকের জন্যই নয়, দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সুরক্ষায় কাজ করে। তাই আমর নিয়মিত মধু খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলব।


Post a Comment

0 Comments